1. mohib.bsl@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarmukh69@gmail.com : adminbangla :
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
নলছিটির আলোচিত রুম্মান হত্যা মামলা সিআইডিতে বাকেরগঞ্জে ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি দের খামখেয়ালি-পনায় রোগী ও তার স্বজনরা অতিষ্ঠ ইঞ্জিঃ অ্যাড. জি. কে মোস্তাফিজুর রহমান কে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভা বাকেরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় ছাত্রলীগ’র ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত বাকেরগঞ্জে এ.এস.টি অবৈধ ইটভাটা গিলছে ফসলি জমি দূষিত করছে পরিবেশ তৃতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়াকে বাকেরগঞ্জ হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর শুভেচ্ছা  ঝালকাঠিতে ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চেক বিতরণ বাকেরগঞ্জের ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা, মামলা তুলে নিতে শিক্ষক তুরানের হুমকি আগামী কাল মরহুম আব্দুল মান্নানের ৩৪তম মৃত্যু বার্ষিকী

২১ আগস্ট স্মরণে স্থাপিত শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা

  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ১২৪ Time View
শেখ হাসিনা

গ্রেনেড হামলায় খালেদা-তারেক সরাসরি জড়িত : প্রধানমন্ত্রী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার সরাসরি জড়িত বলে আবারও অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকারের মদদ না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো সম্ভব হতো না। তখনকার ক্ষমতাসীনরা ‘সরাসরি জড়িত ছিল’ বলেই সংসদে ওই ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগকে কথা বলতেও ‘বাধা’ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কাউকে মাইক দেয়নি, আলোচনা করতে দেয়নি। এর থেকে কী প্রমাণ হয়? তারা যদি সরাসরি জড়িত না থাকবে, তাহলে কি এই রকমভাবে বাধা দিত?

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্মরণে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার বক্তব্য রাখেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের পক্ষ থেকে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী সেখানে ছিলেন। এরপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের গ্রেনেড হামলা পৃথিবীতে আর কখনো কোথাও ঘটেনি। সাধারণত রণক্ষেত্রে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমাদের সেইর্ যালিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই ওই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে খালেদা জিয়া বক্তৃতায় বলেছিলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলের নেতাও কোনোদিন হতে পারবে না। এই ভবিষ্যদ্‌বাণী খালেদা জিয়া কীভাবে দিয়েছিল? কারণ তাদের চক্রান্তই ছিল যে আমাকে তারা হত্যা করে ফেলবে। তাহলে তো আর আমি কিছুই হতে পারব না। প্রতিটি ঘটনার আগে তার বক্তৃতাগুলো যদি আপনারা অনুসরণ করেন, দেখবেন ঠিক এই কথাগুলোই বলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কিডন্যাপ করে হত্যার পরিকল্পনার জন্যও বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে তিনি বলেন, তারা আমেরিকায় আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কিডন্যাপ করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। সেটা ধরা পড়ল এফবিআইয়ের কাছে। তারা যখন এটা তদন্ত করে তখন সেখানে বিএনপির নেতা দোষী সাব্যস্ত হয় এবং সাজাপ্রাপ্ত হয়। রায়ে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান এবং শফিক রেহমানের নামও বেরিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে যে শাস্তি পায়, সে তারেক জিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল। এটা কিন্তু আমরা কখনো জানতে পারতাম না যদি এফবিআই এটা খুঁজে বের না করত বা মামলার রায় না বের হতো।

শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমি বিরোধী দলের নেতা, আমার উপর এমন একটা গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই দলের একটা সভায় এমন একটা গ্রেনেড হামলা, আর পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, লিডার অফ দ্য হাউস, প্রধানমন্ত্রী; সে দাঁড়িয়ে বলে দিল, ‘উনাকে আবার কে মারবে’। এখন তো বলতে হয় যে আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন, সেই জন্য আর পারছেন না। সেইদিন এই রকম তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলে আমাদেরকে কোনো কথা বলতে দেয় নাই এই হামলা সম্পর্কে। অথচ তখন আমাদের নেতাকর্মীরা, পার্লামেন্ট মেম্বাররা আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, মৃতু্যর সঙ্গে লড়াই করছেন।

দেশের মানুষের সেবা করার জন্য আলস্নাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পুরো দেশটাকেই ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ পরিণত করেছিল। আমি জানি না, আলস্নাহ বোধহয় এ কারণেই বাঁচিয়ে রেখেছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু যাতে করতে পারি। নইলে এই রকম অবস্থা থেকে বেঁচে আসা, এটা অত্যন্ত কষ্টকর। তিনি বলেন, বিএনপির কাছে ক্ষমতা হচ্ছে দুর্নীতি করে টাকা বানানো। তারা যে দুর্নীতি করে গেছে এবং দুর্নীতির যে বিষবৃক্ষ রচনা করে গেছে, আজকে তার কুফল বাংলাদেশ ভোগ করছে। আমরা সরকারে আসার পরে এক এক করে সেগুলো ধরছি, উদ্ঘাটন করছি। দুর্নীতির এত টাকা যে, বিদেশে গিয়ে এই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি, যে সাজাপ্রাপ্ত, সে যেভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, কই আমরা তো তা পারি না। কিন্তু তারা করছে। কোথা থেকে পাচ্ছে এত টাকা?

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের চক্রান্তের সঙ্গে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান জড়িত উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খন্দকার মোশতাক অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান করে। আবার জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী প্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, একটি পরিবারকে হত্যা করেছে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করেছে, তাদেরকেই বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়, পুরস্কৃত করে। খুনিদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। খুনি কর্নেল রশীদ, কর্নেল ফারুক বিবিসির ইন্টারভিউতে খুব স্পষ্টভাবে বলেছে জিয়াউর রহমান তাদের সঙ্গে একটা যোগাযোগ রাখত। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটায় এবং এর সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমান যে জড়িত- যারা ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদেরই এসব তথ্য কথায় বের হয়ে এসেছে, তারা কোথায় মিটিং করেছে, কীভাবে ওই ষড়যন্ত্র করেছে সব প্রকাশিত হয়েছে। তারা যদি এর সঙ্গে জড়িত না-ই থাকবে, তাহলে তারা কেন আলামত নষ্ট করল? কেন সেই সময় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে না নিয়ে সেখানে টিয়ারগ্যাস মারা হলো আর লাঠিচার্জ করা হলো? যারা নিজের আপনজনকে তুলতে গিয়েছে, পুলিশ তাদের লাঠি দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। হামলাকারীরা যাতে নির্বিঘ্নে ওই জায়গা ত্যাগ করতে পারে, সেই সুযোগটা সৃষ্টি করবার জন্যই তারা এটা করেছিল।

করোনা সংকটকালে দলের নেতাকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীঘ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ প্রতিটি সহযোগী সংগঠন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ধান কাটার সময় তারা ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলে দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এখনো ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছে। মানুষকে এই ত্রাণ দিতে গিয়ে দলের অনেক নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। করোনার সময় পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের সবাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি।

মহামারির মধ্যে সরাসরি সভায় যোগ দিতে না পারায় নেতাকর্মীদের নিজের বেদনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে খুব দুঃখ পাচ্ছি এজন্য যে, আমি আপনাদের মাঝে সরাসরি আসতে পারলাম না। রাষ্ট্রীয় একটা বিষয় থেকে এই সমস্যা। কিন্তু আজকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি বলে ভালো লাগছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা, ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার কথাও তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপস্নব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপসহ দলের কেন্দ্রীয়, মহানগরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়কে প্রধানমন্ত্রীর ‘ধন্যবাদ’

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে পারার কারণে তিনি তার ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয়কে টেলিফোনে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জয়কে বলেছেন, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তুই যদি ডিজিটাল পদ্ধতি না করে দিতি তাহলে আজকে এভাবে আমরা আমাদের এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে পারতাম না। সবকিছু স্থবির হয়ে থাকত।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভিশন-২০২১ ইশতেহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি। তারপর থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীকে সেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক (আইসিটি) উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2019 Mohib Khan

Theme Customized By BreakingNews