ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে সেই সম্পর্ক কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোনো চুক্তিতে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু ব্যবস্থা ও চুক্তি করা হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে বন্ধুদেশের জাহাজ আগে খালাসের সুযোগ পেত। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন বিভিন্ন চুক্তি ও ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিল প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, এ আইনের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে।