ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

দেশের ব্যাংকিং খাতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা আবারও বেড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মাত্র তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। জুন শেষে তা বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে।

এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের একটি অংশ যখন সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন খরচ সামলাচ্ছে, তখন ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি অর্থনীতির বৈষম্যমূলক চিত্রকে সামনে আনছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বড় ব্যবসা ও বিত্তশালী শ্রেণির আয় ও আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরায় আমানত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

এর তিন মাস আগে মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। তখন এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। একই সময়ে মোট আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।

তবে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হিসাব রয়েছে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংকে একাধিক হিসাবও রাখতে পারে। ফলে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা আর কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টি এবং ২০২২ সালের শেষে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টিতে দাঁড়ায়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি। ২০২৪ সালের শেষে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি।

সবশেষ চলতি বছরের জুনে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে, একদিকে সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের চাপ বাড়া এবং অন্যদিকে ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধির এই বিপরীত প্রবণতা দেশের আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করছে।