স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪৬


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ন

স্পেনের তোলেদো অঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬ জনে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক হিসাব তখনও নিশ্চিত হয়নি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটের দিকে মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিও পরিচালিত আরেকটি ট্রেন জড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেনফের ট্রেনটি সামনে থাকা ইরিওর ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে পড়ে যায়।

ট্রেন দুটিতে ছিলেন ৫৪৪ যাত্রী

দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকলকর্মী, পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে রেললাইনের পাশের ঢালে ট্রেনের বগি কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

‘যাত্রীরা একে অপরের ওপর ছিটকে পড়েন’

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫৪ বছর বয়সী যাত্রী জেসুস জেরোনিমো স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইসকে জানান, সংঘর্ষের সময় ট্রেনের ভেতরে যাত্রীরা একে অপরের ওপর ছিটকে পড়েন। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন, তাঁদের ট্রেনটি কাত হয়ে আছে। আশপাশে অনেক আহত মানুষ ছিলেন এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শোক প্রকাশ পেদ্রো সানচেজের

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করা, আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায় বা কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।