২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এইচএসসির পাসের হার, ফেল করেছেন প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাসের হার এর চেয়ে কম ছিল। ওই বছর পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পরের বছর ২০০৫ সালে তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর গত ২২ বছরে পাসের হার আর এত নিচে নামেনি।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬ জন।

ব্যানবেইসের কাছে সংরক্ষিত ১৯৯০ সাল থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। সব বোর্ড মিলিয়ে এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

জিপিএ-৫ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে

পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন।

এর আগে ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন এবং ২০১৮ সালে পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৬২ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আট বছরের মধ্যে এবারই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

শনিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ

এদিকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার