নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন: বিরোধী নেতা আইজেনকোটকে সমর্থনের পথে কট্টরপন্থি ইহুদি দল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ন

ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে আসার চিন্তা করছে। এমনকি সরাসরি বিরোধী জোটে যোগ না দিয়েও গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে দলটি।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এ ছাড়া আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। পুনরায় নির্বাচন এড়াতে সব ধরনের রাজনৈতিক বিকল্প বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক ইউটিজে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, দলটি বিরোধী জোটের সরকারে সরাসরি যোগ দেবে না। তবে সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা কোনো আইনের বিপক্ষে ভোট না দিয়ে সংসদে ভোটদানে বিরত থাকতে পারে। এতে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের পথ সহজ হতে পারে।

চ্যানেল ১২-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউটিজের সাতটি আসন বাদ দিলে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬টি। অন্যদিকে আইজেনকটের জোটের আসন থাকবে ৪৮টি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হতে পারে। এবারের নির্বাচনে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’ম পার্টি পেয়েছে আটটি আসন।

নেতানিয়াহুর ওপর কেন অসন্তুষ্ট ইউটিজে

মূলত ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট ইউটিজে। দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে দলটি। কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার তাদের সেই দাবি পূরণ করতে পারেনি।

ইউটিজের একটি সূত্র চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কাছ থেকে দলটির আর পাওয়ার কিছু নেই। তাঁর সঙ্গে জোটের রাজনৈতিক অধ্যায় কার্যত শেষ হয়েছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর জোটের হাতে এখন প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন না থাকায় দলটি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করছে। নেসেটে আবারও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য।

তবে বিরোধী জোটের সঙ্গে ইউটিজের সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে সামরিক নিয়োগের বিষয়টি। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট প্রকাশ্যেই ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউটিজে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

যদিও ইউটিজের কয়েকজন নেতা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি আইনের খসড়া তৈরি করা সম্ভব, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

ইউটিজের অবস্থান পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সরকার গঠনের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে দলগুলোর মধ্যে চলমান আলোচনা ও সম্ভাব্য সমঝোতার ওপর।