সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ন

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপ হয়ে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বানৌজা মোংলায় পৌঁছান তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্টসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরে নলিয়ান থেকে লঞ্চঘাট হয়ে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন

সফরসূচি অনুযায়ী, মধ্যাহ্নবিরতির পর মোংলায় ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন তিনি।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় ওই অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। দিনের কর্মসূচি শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

উন্নয়ন ও বিনিয়োগ ঘিরে প্রত্যাশা

মোংলা বন্দর, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনাকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবিকা ও পরিবেশ সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ অঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত উদ্যোগগুলো আরও এগিয়ে যাবে।