রংপুরে চার খুন: আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দুই আসামির


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ন

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।

মহানগর কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।

আসামিরা অপরাধের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না—এ বিষয়ে তারা কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে জানানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

মামলায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে। আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় আপাতত তাদের রিমান্ড চাওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, ছাদে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।

এ ঘটনায় রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা মোবাইল ফোনে তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পূজা আবার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয় তার। পরে স্বামী বিপুল আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বোনের বাড়িতে যান।

বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতিদের বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে ঘর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।

এজাহারে বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।