৪৫৯২ জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করছে সাইবার পুলিশ ইউনিট


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ন

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে নতুন এই ইউনিট।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে জনবল নেওয়ার পাশাপাশি শুরুতে বিভিন্ন খাতে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। ইউনিটের প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগ ও পুলিশ সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। থানাগুলোতেও ইউনিটটির জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল থাকবে।

নতুন ইউনিটে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট ও কমিউনিকেশন এক্সপার্টসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ রাখার সুযোগ থাকবে। তাদের জন্য নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় পৃথক বেতন-ভাতা কাঠামো ও প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে সাইবার অপরাধের পাশাপাশি মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন পর্যায়ে অসংগঠিতভাবে কাজ করা হতো, ফলে সমন্বয়হীনতা ছিল। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, পুলিশের মধ্যে সাইবার বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষণে আগ্রহী সদস্যদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বিদ্যমান সাইবার বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদেরও নতুন ইউনিটে যুক্ত করা হবে।

সাইবার সিকিউরিটি আইন আধুনিকায়নের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনটি সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করা হয়েছে। নতুন আইনে সাইবার অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি ঠেকানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, “এটা খুবই সেনসিটিভ আইন, সেজন্য আমরা দীর্ঘ সময় নিচ্ছি। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সেই বিলটা আমরা নিয়ে আসব।”