রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ন

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের পর পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ। দলীয় ও সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে এবং আলোচনায় আসে মিষ্টির নাম।

এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় করা মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা সেন্টারে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ভারী যন্ত্রপাতি এনে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়। ধ্বংস করা স্থাপনার জায়গায় পরে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়।

রাড্ডা সেন্টারের জমি নিয়ে ওই সমিতির সঙ্গে মিষ্টির পুরোনো সম্পৃক্ততার তথ্যও সামনে এসেছে। ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি সমিতিটির সভাপতি ছিলেন এবং জায়গাটি বরাদ্দের জন্য করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে মিষ্টির দাবি, এরপর সমিতির সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক নেই।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। এর আগে তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, কোনো বিএনপি নেতা ওই ঘটনায় জড়িত নন।

এদিকে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান এবং মিষ্টির বিরুদ্ধে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনো প্রমাণিত বলে কোনো সরকারি তদন্ত-ফল প্রকাশ হয়নি।

মিষ্টি এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রাড্ডা-কাণ্ডের পর গতকাল রাতে ওই কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।