অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা উধাও, পলাতক কর্মকর্তা আটক


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঢাকার মিরপুর-১-এর পাইকপাড়া এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও শ্রীনগর থানার পুলিশের যৌথ দল তাকে আটক করে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান। তিনি জানান, শরিফুজ্জামান মিরপুর-১ এলাকায় তার বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে রাতেই তাকে মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

শরিফুজ্জামান সোহাগ শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শাখা ব্যবস্থাপক সরফুদ্দিন। পরে পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠায়।

ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে ২৫৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে রোববার ১৮৪ জন, সোমবার ৪৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৫ জন অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি করা পাওনার পরিমাণ সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে অর্থের প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আর কেউ জড়িত কি না এবং মোট কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ব্যাংক থেকে করা জিডি গত শুক্রবার দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন। তিনি জানান, জিডিটি রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশন পরবর্তী অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুসন্ধানের পরই প্রকৃত ঘটনা ও অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তাই শরিফুজ্জামান সোহাগকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।