কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ’ নামের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা আশিকুলের পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন ফারিয়া কবির (৩৩), নাফিস ইবতে হামিদ (২৪), পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান, মিথিলা মেহজাবিন (২৩), লাইলা জাহান নাবিলা (২৪) ও মালিহা (২৮)।

এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০), সামিদা (৩২), নাফিজা নওয়ার খান (২৯) ও সাহাবুদ্দিন (৩১)। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, রিসোর্টটিতে আশিকুলের পরিবারের নয়জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি তিনজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার শনিবার বেলা ১১টার দিকে জানান, রিসোর্টটিতে ২৭ জনের প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে নয়জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোরশেদ দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার হওয়া চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।