দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮০ জনে। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৮ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৭৮ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।
এক দিনে উপসর্গে আক্রান্ত ৯৯২ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জন।
একই সময়ে নতুন করে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৬৩ জন। ফলে ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনে।
এ ছাড়া এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৯ জন।
শিশুদের ঝুঁকি বেশি
রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সব ঘটনাকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হাম রোগীদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ শিশু হামের টিকা নেয়নি। আর হামে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৫২ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম।
গত এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে আসা ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ৩৪১ শিশুকে নিয়ে গবেষণাটি করা হয়। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও শিশু হাসপাতালের ১৯ জন গবেষক এতে অংশ নেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর বয়সভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :