এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ, ফের তীব্র গ্যাস সংকট


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন

মাত্র কয়েক দিনের স্বস্তির পর আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে দেশ। মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে দৈনিক প্রায় ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এলএনজি কার্গো না আসা এবং টার্মিনালের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। এর ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

টানা ২৫ দিনের সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তবে নতুন কার্গো না আসায় এক্সিলারেট পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করছিল। সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে কমতে বুধবার বিকেলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম তদারকি করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত না থাকায় সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গোর জন্য ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি আগস্টে অন্তত চারটি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। এতে এলএনজি আমদানি পরিকল্পনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত শেষে গত শনিবার এটি আবার সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন এলএনজি কার্গো না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। পুরোনো মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পর বুধবার বিকেল থেকে টার্মিনালটির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে খালাস করা হতে পারে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের জন্য নির্ধারিত একটি কার্গো ২৩ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে দেশে আসতে পারে। ফলে এর আগ পর্যন্ত সীমিত গ্যাস সরবরাহের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সংকট মোকাবিলায় সাধারণত প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের লক্ষ্য ধরা হয়। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে আসার কথা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি-নির্ভর সরবরাহে নতুন করে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার এলএনজি থেকে প্রায় ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। বুধবার এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর তা কমে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। এতে শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে।