বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন, পরিবর্তন, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অনাহুত বিরোধিতা না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ শনিবার কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মুগারচর কেরামত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবীণ শিক্ষক মো. রোকনুজ্জামানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, বিপর্যস্ত ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে প্রতিবারই রাষ্ট্রকে উত্তরণ ঘটিয়েছে বিএনপি সরকার। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশে টেকসই উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। আরেকটি দল বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার ভুলুন্ঠিত ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্থ ধারার রাজনীতি, টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করছেন।
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাতেগড়া মেঘনার বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রধান অতিথি ড.খন্দকার মারুফ বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মেঘনা উপজেলার উন্নয়নে কোনো কাজই করেনি। নদীবেষ্টিত এই উপজেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আমরা বিরামহীন কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, পর্যায়ক্রমে জনগণের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপিতে অপরাধীর কোনো স্থান হবে না। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থ ও নতুন ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর সূচিত সুস্থ ধারার উন্নয়নের রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ২৪এর জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যার পরও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাধ মিটেনি, তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই। এখন বিদেশে বসে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংসতার মাধ্যমে দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।
তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় একসাথে কাজ করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীট দখল, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী ও রাহাজানি হয় না। লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়। বিএনপি সরকার সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :