‘আমার তো একটাই ছেলে, ওকে ছাড়া জীবন পার করব কীভাবে


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ন

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’

এভাবেই একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ড. নাহিদা বেগমের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষক।

ড. নাহিদা বলেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি কীভাবে বাঁচব? আমার তো একটাই ছেলে। ওকে ছাড়া কীভাবে জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি কীভাবে জীবন পার করব?’

কথাগুলো বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। মায়ের এই আহাজারি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও। পরে তিনি পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাশে সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মায়ের আইফোনটি নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।