জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারো আসোর নেতৃত্বে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এ লক্ষ্যে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা চান তারেক রহমান।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।
২০০৬ সালের জাপান সফরের স্মৃতিচারণ

জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ২০০৬ সালে জাপান সফরের সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে অবদান রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাপানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।