সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে

আদালত প্রাঙ্গণের ঘটনায় পরীমণিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আইনি নোটিশ


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ন

আদালত প্রাঙ্গণে গত ৫ নভেম্বর সংঘটিত ঘটনার জন্য চিত্রনায়িকা পরীমণিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পরীমণি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। তিনি জানান, রোববার সকালে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তিনজনের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শিল্পী সমিতিকেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ

আইনি নোটিশে পরীমণিকে ভবিষ্যতে অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি ও নৃত্যসহ শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে পরীমণিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নোটিশদাতা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান পরীমণি। সেদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

নোটিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় পরীমণি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন। তাঁর ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমণির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনায় জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের একজন বিচারপ্রার্থীও আহত হন। তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ কারও নেই।

সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ

আইনি নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান। তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রবিউল হোসাইনের ডান হাত জন্মগতভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ছোট এবং ওই হাতে তিনটি আঙুল নেই। এ কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে ওই হাত দিয়ে কাজকর্ম করতে পারেন না।

এ ঘটনার ভিডিওচিত্র গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। একজন পেশাগত সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ তাঁর পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাতের পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও মন্তব্য করেছেন নোটিশদাতা।

তবে এসব অভিযোগ আইনি নোটিশে উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে পরীমণি বা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।