রোববার শেষ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ, বাড়ছে উত্তেজনা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রসারিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পর বর্তমান পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতা নয়, বরং দ্রুত একটি রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনো সীমিত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের নীতিনির্ধারক মহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তারা অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের বদলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর তথ্য পাচ্ছেন বলে উদ্বেগ রয়েছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধবিরতির এই বাড়তি সময় মূলত সীমিত মেয়াদের। যদিও প্রথমে অনির্দিষ্টকালের শান্তি-প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, এখন তা কার্যত নির্দিষ্ট সময়সীমায় আবদ্ধ। ফলে রোববারের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে তেহরানের সম্ভাব্য প্রস্তাব ও ওয়াশিংটনের মূল্যায়নের ওপর।

গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর ঘোষণা আসে। শর্ত ছিল, ইরানকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হবে এবং আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে হবে। সেই প্রস্তাব এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, যা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে প্রস্তুতি থাকলেও আস্থার ঘাটতি এবং কৌশলগত অবিশ্বাস বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের নির্ধারিত সময়সীমা কেবল আলোচনার কাঠামো নয়, বরং চাপ সৃষ্টির একটি কূটনৈতিক কৌশলও হতে পারে। অন্যদিকে তেহরান এটিকে নিজেদের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ হিসেবে দেখছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, রোববারের আগে যদি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি না হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

পাকিস্তান নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মূল সংকট এখন ওয়াশিংটন-তেহরান আস্থাহীনতায়। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করতে পারে—সংঘাত প্রশমনের পথ খুলবে, নাকি অঞ্চল আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে যাবে।