হাম পরিস্থিতির আরও অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ন

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৮৭ শিশুর মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ শিশুর সবাই সন্দেহজনক হাম-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ২২৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম ধরা পড়েছে, আর ১ হাজার ৫৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মোট আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম সন্দেহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৬০ শিশু। একই সময়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ১৭ হাজার ৮১ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ জন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত এবং ২০৯ জন সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

ঢাকায় সর্বোচ্চ চাপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, হাম সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি চাপ ঢাকা বিভাগে। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ জনঘনত্ব, টিকাদান ঘাটতি, এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ—ঢাকায় সংক্রমণ বিস্তারের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল মৌসুমি প্রাদুর্ভাব নয়; এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আলাদা রাখা, আইসোলেশন ব্যবস্থা বাড়ানো এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তাদের মতে, হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ ঠেকাতে পৃথক ওয়ার্ড, অতিরিক্ত শয্যা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি এখন জরুরি।

সরকারি পদক্ষেপের দিকে নজর
পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন মূল প্রশ্ন—সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো কত দ্রুত সম্প্রসারণ করা যায়। একই সঙ্গে টিকাবঞ্চিত শিশুদের চিহ্নিত করে দ্রুত কভারেজ বাড়ানোই হতে পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়।

হাম পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি আর বিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নয়—বরং তা জাতীয় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।