ইরানের পাঠানো নতুন ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের পরিকল্পনাটি তিনি শিগগিরই পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইঙ্গিত দেন, প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে তেহরান ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জমা দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরান পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।
ইরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে সংঘাতের স্থায়ী অবসান।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দুই মাসের সময় নিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমাধানের সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলেছে।
তবে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :