বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, দিল্লিমুখী কৃষকদের আটকালো পুলিশ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ন

প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে মহাসমাবেশে যোগ দিতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের শত শত কৃষক রাজধানীমুখী যাত্রা শুরু করেছেন। তবে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের শম্ভু এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ। ফলে সীমান্তেই বিক্ষোভ ও সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তখনও কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক ও একাধিক স্তরের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছিল।

শম্ভু সীমান্তে আটকে পড়া কৃষকেরা অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কৃষক সংগঠন বিকেইউ শহীদ ভগৎ সিংয়ের নেতা তেজভীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরেই ব্যারিকেড স্থাপন করেছে এবং পাঞ্জাব সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

অন্যদিকে, হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্র ও আশপাশের জেলা থেকে কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয় ও মেধাস্বত্বসহ বিভিন্ন খাত বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।

কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষক নেতাদের আশঙ্কা, মার্কিন ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার উন্মুক্ত হলে দেশের লাখো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না। বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, দুগ্ধ, পোলট্রি ও মৎস্য খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি জনসমক্ষে প্রকাশ না করেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই চুক্তিসংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’।

ভারতের দুগ্ধ খাত প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে কৃষক সংগঠনগুলো বলছে, এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি সংকটে পড়বে।