ইরানে টানা ১১তম রাতের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, তেহরানজুড়ে বিস্ফোরণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ন

ইরানে টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় করা হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের তৈরি করা হুমকি দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। অন্যদিকে ইরানের তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর, সিরিক, খুজেস্তানের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজের সামরিক স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করলেও এবার তেহরান ও তাবরিজে হামলা সংঘাতের নতুন মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার ঘটনাও বেড়েছে।

মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রাখতে আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় খুব শিগগিরই আরও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে সংঘাত পুরো অঞ্চলে আরও বিস্তৃত হবে।