পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলে তা নাকচ করে দেন বিচারক।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রাসেল। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী খন্দকার শামীম হোসেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন বলেন, পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
দুই ধারায় সাত বছর করে সাজা
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত এ মামলায় এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল এবং রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।
রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে প্রত্যেক আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
একইভাবে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ জরিমানা অনাদায়েও এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে প্রত্যেক আসামিকে মোট সাত বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন।
যেভাবে বরাদ্দ পান রাসেল ও রুবেল
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বৈধ আবেদনকারীদের বঞ্চিত করে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে প্লট দুটি বরাদ্দ দেন।
সে সময় রাসেল ও রুবেলের বাবা এম এ হাসেম নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।
শওকত আজিজ রাসেল আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। অন্যদিকে আশফাক আজিজ রুবেল পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান।
রায় ঘোষণার সময় আট আসামির কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা জামিনে থাকলেও হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁদের জামিন বাতিল করেন। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
২০১৭ সালে দুদকের মামলা, সাক্ষ্য দিয়েছেন ৯ জন
এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে আদালত এ মামলায় মোট নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ১৩ অক্টোবর আট আসামিকে দণ্ডিত করেন আদালত।
আপনার মতামত লিখুন :