সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে পয়লা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের মোট ১১টি উপজেলায় একযোগে কার্যক্রম শুরু হবে। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কার্ড মূলত কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং সরকারি ভর্তুকি ও সহায়তা সরাসরি গ্রহণের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বছরে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যা দিয়ে তারা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য কিনতে পারবেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিচিতি তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভর্তুকি, কৃষিঋণ এবং উপকরণ বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
বৈঠকে কৃষি খাতে তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও সেবা প্রদান আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হতে পারে, যা কৃষি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :