সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ন

সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের সম্পদ নয় বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের আস্থা অর্জনই বাহিনীর মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। “আমরা এমন একটি বাহিনী চাই, যাদের প্রতি বহির্বিশ্ব সম্মান দেখাবে এবং দেশের মানুষ আস্থা রাখবে,”—যোগ করেন তিনি।

তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে সবসময় উচ্চ নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর দেশপ্রেমের চেতনা বাহিনীর প্রতিটি স্তরে ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, ২১ নভেম্বরের যৌথ সামরিক সংহতি এবং ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচন আয়োজনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাও চলে। তবে সব বাধা অতিক্রম করে বাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুনাম ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সমন্বয়ে একটি আধুনিক, পেশাদার ও বিশ্বমানের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।