‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ন

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আধুনিক ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করার লক্ষ্যে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকে আরও সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা বাড়াবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় এই সেবা চালু করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব এলাকায় পাইলট প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন করে পরবর্তীতে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হতে পারে। ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত এই কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ, পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা কমানো এবং সেবা প্রদানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, তথ্য নিরাপত্তা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এদিকে সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী-এর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিক্ষাদানের গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

সমগ্র বিবেচনায়, ‘ই-হেলথ কার্ড’ উদ্যোগটি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রকল্প নয়—বরং এটি স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে এনে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।