মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার ইতিহাসে এক সম্ভাব্য মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত মিলেছে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংলাপ উদ্যোগে। প্রায় ৩৪ বছর পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন Donald Trump, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ‘সংযত ও ইতিবাচক পরিবেশ’ তৈরির চেষ্টা চলছে এবং খুব শিগগিরই সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও বৈঠকের স্থান, কাঠামো বা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েল ও লেবাননের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বৈরিতাপূর্ণ। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের Madrid Peace Conference-এর সময় উভয় দেশ একটি বহুপাক্ষিক কাঠামোর অধীনে একই টেবিলে বসেছিল। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটনে সীমিত পরিসরে আলোচনা চললেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এরপর দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় সরাসরি সংলাপ কার্যত বন্ধ ছিল।
এই দীর্ঘ স্থবিরতার পেছনে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে Hezbollah-এর প্রভাব এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধকারী আইন দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তোলে। ফলে এতদিন যাবত যেকোনো ধরনের সংলাপ হয়েছে মূলত পরোক্ষভাবে—জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন UNIFIL অথবা মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত যোগাযোগ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক তৎপরতা এই সম্ভাব্য সংলাপের ভিত্তি তৈরি করেছে। যদিও একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, যা আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংলাপ বাস্তবায়িত হয় এবং তা থেকে কার্যকর কোনো সমঝোতা তৈরি হয়, তাহলে তা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান সংঘাতময় বাস্তবতায় এই উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
আপনার মতামত লিখুন :