কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটা থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায়।
গাছ না কেটেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভকে চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় সড়ক সম্প্রসারণে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার আশঙ্কা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।
এই নির্দেশনার পর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়ন কৌশলে পরিবর্তন আনে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কাটা প্রায় নিয়মিত চর্চায় পরিণত হলেও এবার পরিবেশগত প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক বার্তা দেয়নি, বরং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নেও টেকসই পরিকল্পনার গুরুত্ব সামনে এনেছে। উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ একসঙ্গে সম্ভব— মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে সেই বার্তাই নতুনভাবে উঠে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :