সমীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতি শেষেই একনেকে যাবে প্রকল্প; নদীভাঙন, বন্যা ও পানিসংকট নিরসনে ১২-১৩ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত উদ্যোগ

পদ্মা সেতুর আদলে এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন আশার বার্তা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুন ১৯, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ন

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা ব্যারাজ ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মতোই একনেকের অনুমোদনের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, নকশা ও কারিগরি প্রস্তুতির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত একনেকের অনুমোদন নিয়ে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নদীভাঙন হ্রাস এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সরকার।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে এটি সম্পন্ন হলে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি অর্থায়নের প্রয়োজন নেই। সরকারি অর্থায়নেই ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমানে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের অনেককে অতীতে নদীভাঙন ও পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।