রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া সফল, বিদ্যুৎ মিলবে কবে


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে ইউনিটটিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে চলমান কমিশনিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে বড় একটি ধাপ।
ড. জায়েদুল হাসান জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ অর্জনের ফলে প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, বিভিন্ন সিস্টেম ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই এবং ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হবে। পাশাপাশি গ্রিড সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতিও সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, অপারেশন ও কমিশনিং বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সহযোগিতায় এ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে কমিশনিংয়ের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরবর্তী সব কার্যক্রম সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান, অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে পরিচালনা করা হবে। সফলভাবে এসব ধাপ সম্পন্ন হলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও এগিয়ে যাবে।