হরমুজ প্রণালির তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইরানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা দিয়ে সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেছেন, সামনে নতুন সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানের ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়াম’ মিলনায়তনে এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এসব কথা বলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় ইন্টারনেট ক্যাবল গেছে। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জানাতে চান, নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু সামনে আসছে এবং নতুন অস্ত্রও উন্মোচন করা হবে। তবে কোন অবকাঠামোকে কখন বা কীভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

আইআরআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব ও শক্তি সরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।

সমুদ্রতলদেশের ক্যাবল ও ডেটা অবকাঠামো ঘিরে হুমকি

এর আগে চলতি অক্টোবরের শুরুর দিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনাগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

রেজায়ির বক্তব্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত এসব অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে নতুন সংঘাত শুরু হলে এগুলো ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছিলেন।

সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেট সেবা, আর্থিক লেনদেন এবং আন্তদেশীয় তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে এ ধরনের অবকাঠামোকে ঘিরে সামরিক হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।

পরবর্তী সময়ে জুন মাসে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কৌশলগত এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সমঝোতা বাস্তবায়ন থমকে যায় বলে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই জলপথ ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমুদ্রতলদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আইআরআইবি ও প্রেস টিভি।