শিল্পী ফরিদা পারভীন

লোকসংগীতের অমর কণ্ঠস্বর থেমে গেল: ফরিদা পারভীন আর নেই


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫, ১১:৫১ অপরাহ্ন

বাংলার মুখ ডেস্ক

বাংলাদেশের লোকসংগীতের আকাশে নক্ষত্রসম দীপ্তি ছড়িয়ে যাওয়া শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। সপ্তাহে দুইবার নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো তাকে। গত ২ সেপ্টেম্বর নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি আইসিইউতে ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এর আগেও চলতি বছরের জুলাইয়ে একই হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সেবার দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ২১ জুলাই বাসায় ফেরেন।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন বেড়ে উঠেছেন কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত গেয়ে সংগীত ভুবনে যাত্রা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে তালিম নিয়ে লালনসংগীতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।

লোকসংগীতকে জীবনের অনিবার্য অঙ্গ করে তুলেছিলেন তিনি। লালনের গানকে শুধু কণ্ঠে নয়, হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন। এজন্যই তিনি পরিচিত ‘লালনকন্যা’ হিসেবে। তার কণ্ঠে “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি”, “তোরা দেখে যা আমায়” কিংবা “ভেসে আসে সুখের স্রোত”–প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।

কীর্তিময় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ফরিদা পারভীন পেয়েছেন একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। সংগীতচর্চাকে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘অচিন পাখি স্কুল’।

লোকসংগীতের এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর প্রস্থান বাংলা গানের ভুবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। তার কণ্ঠের মায়াজাল হয়তো আর নতুন করে শুনতে পাওয়া যাবে না, কিন্তু তার গাওয়া গান বেঁচে থাকবে অমর স্মৃতির মতো—বাংলার মানুষের হৃদয়ে, বাংলার মাটির গন্ধে।