প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ: মাহ্দী আমিন


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, উন্নয়ন এবং বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি ও ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ নিয়ে এসব তথ্য জানান মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরকার গঠনের জন্য অভিনন্দন জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। গুতেরেস বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি ও জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে দেশের অবদানেরও প্রশংসা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী

মাহ্দী আমিন বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, বিশ্বশান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য জোরদারের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জলবায়ু ও স্বাস্থ্য খাতেও পরিকল্পনা

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও পরিবেশগত অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি নদী-খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মাহ্দী আমিন জানান, আগামী কয়েক বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী থাকবেন। পাশাপাশি মিডওয়াইফারি বা ধাত্রীসেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে।

সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের দুটি কর্মসূচিও ছিল। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক মর্যাদা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।