দেশে একসঙ্গে বাড়ছে হাম, ডেঙ্গু ও মৌসুমি ফ্লুর সংক্রমণ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীরা। একই ধরনের উপসর্গ থাকায় কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তা শনাক্ত করতেও চিকিৎসকদের বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। একসঙ্গে একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ।
সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসা কয়েকজন অভিভাবক জানান, হামের টিকা দেওয়ার পরও শিশুদের ঠান্ডা-জ্বরের সমস্যা বেড়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে একাধিকবার চিকিৎসা করিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একই ধরনের উপসর্গের আড়ালে থাকা ভিন্ন ভিন্ন রোগ শনাক্ত করা। শিশুদের ক্ষেত্রে হাম ও ডেঙ্গুর কিছু উপসর্গেও মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা আক্তার বলেন, হামের সঙ্গে ডেঙ্গুর কিছু উপসর্গের মিল পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে তিন-চার দিন জ্বর থাকার পর জ্বর কমে গিয়ে শরীরে র্যাশ দেখা দিতে পারে। হামের ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানা এবং কানে পুঁজ পড়ার মতো অতিরিক্ত উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
এদিকে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে না সামলাতেই হাসপাতালে বাড়ছে মৌসুমি ফ্লু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ফলে প্রয়োজনীয় বেড সংকটও দেখা দিচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের জন্য বেডের ব্যবস্থা করতে তুলনামূলক সুস্থ রোগীদের দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা না থাকায় যেসব রোগী কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের দ্রুত ছাড়পত্র দিয়ে জরুরি রোগীদের জন্য বেড খালি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের স্বাভাবিক বেডসংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হওয়ায় রোগীর চাপ সামলাতে এভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
একসঙ্গে হাম, ডেঙ্গু ও মৌসুমি ফ্লুর মতো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের প্রস্তুত করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকদেরও পর্যায়ক্রমে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের উপসর্গ শনাক্ত ও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :