শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২৫, ৩:২৩ অপরাহ্ন

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। পাঁচ দিনব্যাপী যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একজন হত্যার জন্য যদি একবার ফাঁসি হয়, তবে শেখ হাসিনার উচিত ১৪০০ বার ফাঁসি হওয়া। তবে আইনি কাঠামোয় তা সম্ভব নয়, তাই আমরা তার সর্বোচ্চ দণ্ড—মৃত্যুদণ্ড—চেয়েছি।”

প্রসিকিউটর আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পরও ভারত থেকে আন্দোলনকারীদের হত্যার হুমকি দিয়ে গেছেন। বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—যা প্রমাণ করে তিনি কোনো অনুশোচনাহীন এক ‘হার্ডনট ক্রিমিনাল’।

আসাদুজ্জামান খান কামাল সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি গ্যাং অব ফোরের সদস্য ছিলেন। তার বাসায় বসেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়। তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তাই তাকেও চরম দণ্ড দেওয়া উচিত।”

এ মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের শাস্তি প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর বলেন, “তিনি আইন অনুযায়ী সত্য উদঘাটনে সহায়তা করেছেন। তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ন্যস্ত।”

প্রসিকিউশন আরও জানায়, নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের জন্য আসামিদের সম্পদ থেকে অর্থ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

মামলাটিতে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে মোট ২৮ কার্যদিবসে। গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন পক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে, যার মধ্যে গণহত্যা, গুম, নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যাতে রয়েছে ২,০১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, ৪,০০৫ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ ও ২,৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা।

সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ব্রিফিং।