নিম্নমানের কিট ক্যাট: নেসলে বাংলাদেশের এমডির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে নিরাপদ খাদ্য আদালত। সোমবার ঢাকার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসানের আবেদনের পর আদালত এই নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত।

এর আগে কিট ক্যাট আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা চলমান ছিল। নতুন তদন্তে দেখা গেছে, নেসলে বাংলাদেশ নিজে আমদানি করা কিট ক্যাট চকলেটেও দুধের কঠিন অংশ ও দুগ্ধচর্বির পরিমাণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম—যা পণ্যটিকে ‘মানহীন’ প্রমাণ করে।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দুধের কঠিন অংশ যেখানে ১২–১৪ শতাংশ থাকার কথা, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ৯.৩১ শতাংশ। দুগ্ধচর্বিও মানদণ্ডের অর্ধেকের নিচে পাওয়া যায়। জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ উভয়েই এসব ফলাফল নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, নেসলে বাংলাদেশ বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র ছাড়াই দুবাই ও ভারত থেকে কিট ক্যাট আমদানি ও বাজারজাত করেছে—যা নিরাপদ খাদ্য আইন ও আমদানি নীতির পরিপন্থী। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, এতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।

এ ঘটনায় নেসলে বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য জানায়নি। তবে আগের মামলায় প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, বিতর্কিত পণ্য তাদের আমদানি নয় এবং সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু সর্বশেষ তদন্তে নেসলে আমদানিকৃত পণ্যেই মানঘাটতির প্রমাণ মিলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।

একসময়ের বিশ্বসমাদৃত ব্র্যান্ড কিট ক্যাটের মান নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ স্পষ্ট। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—“এত বড় বহুজাতিক কোম্পানি যদি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে আস্থা রাখব কোথায়?”