বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে চাপ

এক বছরে রফতানি আয় কমেছে ৭ বিলিয়ন ডলার


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস—পণ্য রফতানি ও প্রবাসী আয়—গত এক বছরে বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রফতানি আয়ে বড় পতনের কারণে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ কমে গেছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশে মোট বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে রফতানির পতন সামগ্রিক প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ মাসে প্রবাসী আয় রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা একক মাসে সর্বোচ্চ। বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে উৎসাহ, বিনিময় হার সমন্বয় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নয়নের ফলে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও রফতানি আয়ের ঘাটতি পূরণে এটি যথেষ্ট নয়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৮ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম। টানা আট মাস ধরে এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকেও বড় ধাক্কা লেগেছে। গত মার্চে এ খাতের রফতানি আয় কমে প্রায় ২.৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার। নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় উপখাতেই উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন, ইউরোপীয় বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় রফতানি কমেছে। বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বাজার দখল করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা রফতানি খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রফতানি আয়, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—এই তিন স্তম্ভের ভারসাম্য নষ্ট হলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার বৈচিত্র্য, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।