ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশন কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক পথ আরও সুগম হলো। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে প্রাথমিক যাচাইয়ে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি বা আইনি জটিলতা পাওয়া যায়নি।
এর আগে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি ৩৬ জন নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেন। ঘোষিত তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য, দলীয় নেতা, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ধাপ নয়; এটি সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও দলীয় কৌশলের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের পর সংরক্ষিত আসনের বণ্টনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে এই প্রক্রিয়া বাড়তি গুরুত্ব বহন করে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ধাপে আপত্তি, প্রত্যাহার এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার মাধ্যমে দলটির সংসদীয় উপস্থিতি ও নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রেখেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী আনুষ্ঠানিকতা আরও গতি পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :