সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের আটটি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলো সবসময়ই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে। তবে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর-এর সতর্কতামূলক চিঠি পাওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগমন ও বহির্গমন টার্মিনালে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। তবুও আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রতিটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা হয় না, সেগুলোতেও রাতের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর একটি দাফতরিক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে।
চিঠিতে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে উগ্রবাদী তৎপরতা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি মূলত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :