দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি)-এর সম্মেলন কক্ষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা জানান, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি তেলের সংকট নেই। সরকারি হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও জানান, গত মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ও সংশোধিত প্রকল্প উভয়ই রয়েছে, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসন উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্যের প্রভাবে কিছু ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় বাড়লেও ঢাকার বাস ও মিনিবাসের সরকারি ভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে গেলে তা দেশের জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :