চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত শিশু রেশমির মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম নগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার থেকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা শিশুটি সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যায়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি রেশমির চোখের নিচ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার ভেতরে আটকে ছিল। এতে তার মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাসপাতালে আনার পর থেকেই কার্যত তার ব্রেন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

গত ৭ মে রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার রৌফাবাদ কলোনিতে এই গুলির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রেশমি পাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাড়ি ফিরছিল। ঠিক সেই সময় এলাকায় হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনা শুরু হয়। আতঙ্কে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে যায় সে। মুহূর্তের মধ্যে একটি গুলি এসে তার মুখে আঘাত করে।

স্থানীয়রা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

একই ঘটনায় হাসান ওরফে রাজু (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি হত্যা মামলায় নাম আসার পর তিনি আত্মগোপনে বায়েজিদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত রেশমি আক্তার ছিলেন হতদরিদ্র সবজি বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদ গুড্ডুর কনিষ্ঠ সন্তান। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রেশমি স্থানীয় ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবাধ অস্ত্র ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের জীবনও এখন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। নিরীহ এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।