বরিশালে এক আবাসন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধর এবং জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার নগরের সদর রোড এলাকায় অবস্থিত অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের নির্দেশে মামলা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পর রোববার বিকেলে নগরের টপ টেন এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক এবং ছয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই করিয়ে নেয়।
স্থানীয়ভাবে লিটুকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হলেও বরিশাল মহানগর যুবদল তা অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন জানান, লিটু কখনো যুবদলের কোনো পদে ছিলেন না।
অন্যদিকে, লিটুর ভাই ও বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, ঘটনাটি যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে সেভাবে ঘটেনি।
বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলায় লিটুসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, লিটু আগে তাদের আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। ২০২৩ সালে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয় এবং এ বিষয়ে লিখিত ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও গত কয়েক মাস ধরে লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করছিলেন। দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এই ঘটনার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুল আজিজ আরও জানান, ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অবহিত করায় অভিযুক্তরা চেকটি ভাঙাতে পারেননি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অফিসে ঢুকে আবদুল আজিজকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তার সামনে চেক ও স্ট্যাম্প রেখে জোর করে সই করিয়ে নেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :