বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সংবাদভিত্তিক বেসরকারি টেলিভিশন সময় টেলিভিশনের পরিচালক মোহাম্মদ হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইশরাত জাহানের আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সময় টেলিভিশনের সাবেক হেড অব মার্কেটিং আহসানুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান এবং সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ আদায়যোগ্য প্রায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে মওকুফ দেখিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কেটিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা আহসানুল ইসলাম ও আয়েশা সিদ্দিকা এ কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় তা সম্পন্ন হয়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ বিজ্ঞাপনের পাওনা অর্থের হিসাব চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করেন। পরে তারা চাকরি ছেড়ে দিলেও কোনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোটি টাকার বেশি বিজ্ঞাপন বিল মওকুফ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, কোম্পানির বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিল মওকুফ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো বোর্ড সভার নথি উপস্থাপন করা হয়নি।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পরের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাত করেছেন।
আদালত এর আগে ৭ জুলাই আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন। তবে নির্ধারিত দিনে কেউ আদালতে উপস্থিত হননি। তাদের পক্ষে সময় টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জোবায়ের বাবু আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি বোর্ডের দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এদিকে মামলার বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, মামলার কার্যক্রম ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া আগের দিন মামলার বাদী পরিবর্তনেরও চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও তা আদালতে সফল হয়নি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত মোহাম্মদ হাসানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :