যুক্তরাজ্যে আটকে থাকা ২৫ মিলিয়ন ডলার: শওকত আলীকে ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা এনবিআরের


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলারের অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের ঘটনায় ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীকে প্রায় ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)।
আয়কর আইনের অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদ–সংক্রান্ত বিধান প্রয়োগ করে গত ১৫ মার্চ এই আদেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরিমানার মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদের সমমূল্যের অর্থ দেশেই আদায়ের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

আয়কর আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি করদাতার আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না থাকা বিদেশি সম্পদের সন্ধান মিললে এবং তিনি সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে, ওই সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করা যায়। জরিমানা পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা বিক্রি করে অর্থ আদায়েরও সুযোগ রয়েছে।

এলটিইউ সূত্র জানিয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী চলতি বছরের মে মাসে এই অপ্রদর্শিত সম্পদের বিপরীতে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন। তবে জরিমানার অর্থ এখনো পরিশোধ করেননি।

এদিকে যুক্তরাজ্যে অবরুদ্ধ ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফেরানোর সরকারি প্রচেষ্টা আপাতত সফল হয়নি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) অর্থ ফেরতের আগে এমন প্রমাণ চেয়েছিল, যাতে দেখা যায় অর্থটি শুধু বাংলাদেশের আইনেই নয়, যুক্তরাজ্যের আইনেও অবৈধভাবে অর্জিত। এ নিয়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে একাধিক দফা যোগাযোগ হলেও নির্ধারিত চার সপ্তাহের আইনি সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যেই শওকত আলী ওই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করেন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএফআইইউকে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাজ্যের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার চার সপ্তাহের জন্য অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা শর্ত দেয়, বিষয়টি বাংলাদেশের অন্য কোনো সংস্থা বা আদালতের সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে শেয়ার করা যাবে না।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবও বলেছেন, বিদেশে থাকা অর্থ উদ্ধারে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে শওকত আলী চৌধুরীর কাছে লিখিতভাবে বক্তব্য চাওয়া হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।