বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সময় আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে গালাগাল করেন এবং তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ও মারধরের হুমকি দেন। এ সময় তিনি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করেন। কর্তব্যরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এ সময় ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাধারণ যাত্রীদের জন্য রাখা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ঘটনার ভিডিও ও বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।