প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ, আটক ৭০০


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ন

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নির্ধারিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে আগেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং জমায়েত ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া স্লোগান ও জনসমক্ষে বক্তৃতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে নির্বাচন কমিশন এসআইআরসহ তাদের কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে নিজেদের প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

পুলিশের অনুমতি না থাকায় যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে বিভিন্ন প্রবেশপথে পুলিশ অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সৌরভ ভরদ্বাজকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পর আটক করা হয়েছে বলে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বরও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে যন্তর মন্তরের কাছে অন্তত ৬০ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। এবার ২ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরও বড় পরিসরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিক্ষোভ ঘিরে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের খবরও এসেছে।