হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে বিস্ফোরণ, ডুবল ২,৫০০ কনটেইনারবাহী জাহাজ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাতের পর বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার বহনকারী একটি জাহাজ ডুবে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল জাহাজটি। এ সময় সেটি নৌমাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে চোরাচালানের পণ্য ছিল বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।

তবে জাহাজটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, কী ধরনের পণ্য পরিবহন করছিল এবং এতে কতজন নাবিক ছিলেন—তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য জানা যায়নি। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে সামুদ্রিক নিরাপত্তাঝুঁকি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবারও প্রণালিটিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও। এসব ঘটনার তদন্ত চলছিল। একই সঙ্গে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটিতে সামরিক উত্তেজনা কিংবা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে জাহাজমালিকদের পরিচালন ব্যয়, বিমা প্রিমিয়াম ও পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজ নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে ডুবে যাওয়া জাহাজটির ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই এখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও নৌমাইনের আঘাতে জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সর্বশেষ এ ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জাহাজটির পরিচয়, হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা ও ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন।