পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: পারটেক্সের রাসেল-রুবেলসহ ৮ জনের ৭ বছর কারাদণ্ড


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ন

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাসেল ও রুবেলের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচলের দুটি প্লট বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামি হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।

দুই ধারায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

রায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় তাদের আরও সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়েও প্রত্যেককে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে, শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলকে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের আরও সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে এ ক্ষেত্রেও আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের হাজতবাসের সময় মূল দণ্ড থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

রাসেল-রুবেলের দুই প্লট বাজেয়াপ্ত

রায়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচলের সেক্টর-১-এর ৪০৫ নম্বর সড়কের ০১১ ও ০১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্লট দুটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

যেভাবে বরাদ্দ পেয়েছিলেন দুই ভাই

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিল্পপতি কোটায় পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট পেতে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল দেড় লাখ টাকা করে জামানত জমা দেন। প্রথম পর্যায়ে প্লট বরাদ্দ না পাওয়ায় ২০০৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাঁরা জামানতের টাকা তুলে নেন। এর ফলে তাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি ও বাতিল হয়ে যায়। পরে তাঁরা নতুন করে আর আবেদন করেননি।

কিন্তু অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালের ২ জুন রাজউকের ০৮/২০০৪তম বিশেষ বোর্ড সভায় বাছাই কমিটির সুপারিশ ছাড়াই বাতিল হওয়া ওই দুটি আবেদনের বিপরীতে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ভাইকে প্লট বরাদ্দের সুবিধা দিতে বোর্ড সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে জামানতের টাকা তুলে নেওয়া হলেও ১৭ শতাংশ সুদসহ তা ফেরত দিলে তাঁদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া যাবে। মামলায় এ সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বৈধ আবেদনকারীদের বঞ্চিত করার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের মামলা ও বিচার

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল ইসলাম। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে মামলার নয়জন সাক্ষীই আদালতে সাক্ষ্য দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।