সিরিজের একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট, অন্যদিকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আফগানিস্তানের দরকার আরও ৩৪৭ রান। চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করেছে আফগানিস্তান।
আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ২৪০ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।
তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ দিনের শুরুতে দুবার জীবন পান লিটন। আফগান স্পিনার কাইস আহমেদের বলে ১৪ ও ২৬ রানে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন লিটন। মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে তোলেন তিনি। ৬১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ১১৪ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
লিটনের সেঞ্চুরির আগের ওভারেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন মিরাজ। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে আফগান পেসার মোহাম্মদ সালিমের বলে ক্যাচ দিয়েও রক্ষা পান তিনি। শেষ পর্যন্ত দুজনের ব্যাটে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
ইনিংসের ১০৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সালিমের শিকার হন লিটন। ১৪টি চারের সাহায্যে ১১৭ বলে ১০২ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অন্যদিকে মিরাজ ৫টি চারে ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন।
সপ্তম উইকেটে লিটন ও মিরাজের ২০১ বলে ১৪৯ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়। এর আগে প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক শান্ত ৮২ এবং মুশফিকুর রহিম ৮১ রান করেছিলেন। আফগানিস্তানের হয়ে জিয়া উর রহমান, ইয়ামিন আহমাদজাই ও মোহাম্মদ সালিম দুটি করে উইকেট নেন।
৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার আব্দুল মালিককে ২ রানে ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। এরপর তিন নম্বরে নামা নাসির শহিদুল্লাহ ৪টি চার মেরে আক্রমণাত্মক শুরু করলেও ১৯ রানে হাসান মাহমুদের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
২৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অধিনায়ক রহমত শাহ। দুজনের ২১৪ বলে ৮২ রানের জুটিতে ১০০ রানের গণ্ডি পেরোয় আফগানিস্তান। ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৫১ রান করা রহমতকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন এবাদত।
রহমত ফেরার পর আর কোনো উইকেট হারায়নি আফগানিস্তান। দিনের খেলা শেষ করেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাসমতুল্লাহ শাহিদি। আতাল ৩৫ এবং শাহিদি ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে এবাদত দুটি ও হাসান মাহমুদ একটি উইকেট নিয়েছেন।
শেষ দিনে আফগানিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য। বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত ৭ উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, উইকেটে টিকে থেকে রান তোলার পাশাপাশি ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ আফগান ব্যাটারদের সামনে।
আপনার মতামত লিখুন :